বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

111.webp

তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট :
বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তবে দলটির পক্ষ থেকে এতদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কিন্তু বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়রম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারার নিয়মে তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। সেই থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

এখন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান হয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়াারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়াারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। গঠনতন্ত্রের এ বিধানের কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান নিযুক্ত হলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই কার্যত তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি আর রাজনীতিতে ফিরে আসেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top