নিজস্ব প্রতিবেদক :
পেশায় দিনমজুর আব্দুল মাজেদ আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিবেন সে সম্পর্কে খুব উৎসাহ নিয়ে জানিয়েছেন। এর আগে কয়েকটি নির্বাচনে কেন ভোট দিতে পারেন নাই সে সম্পর্কেও বলছিলেন। তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হয়ে পড়েন। উল্টো গণভোট কিসের জন্য, সে সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তবে আব্দুল মাজেদের মতো খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনের বেশিরভাগ ভোটারদের মাঝে গণভোট সম্পর্কে কোন ধারণা নেই।
এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বেশি উৎসাহ তাদের মাঝে। দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা এই উৎসাহের কারণ। তাদের ধারণা এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্বিতাপূর্ণ হবে এবং তারা বাধাহীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এলাকায় প্রার্থীদের গণসংযোগ ও পথসভাগুলোতে দলীয় কর্মী-সমর্থকের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এসব গণসংযোগ ও পথসভায় প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করলেও গণভোট সম্পর্কে কোন কথা বলছেন না। ফলে ভোটারদের মাঝে গণভোট সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই তৈরী হয়নি।
ভ্যান চালক আবুল কালাম বলেন, ‘অনেকদিন ভোট দিতি পারিনে, এবার ভোট দিতি যাব। যারে ভাল লাগবে তাকেই ভোট দ্যাবো।’ এবারের ভোটে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে জানার পর কিছুটা থমকে গিয়ে বলেন, ‘রাজার ভোটে তো একখান ব্যালট দেয়, দু’খান ব্যালট নে কি করবো।’
রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলাম বলেন, ‘এবার এক সাথে জাতীয় সংসদ এবং গণভোট হবে তা জানি। তবে গণভোট কি জন্যি তা জানিনে।’
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মুনছুর রহমানের কাছে গণভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বছর আগে দু’ একবার ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিছি। এবার তো সেরকম ভোট হওয়ার কথা না। যতদুর জানি এবার সবাই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতি পারবে। তাহলে কি জন্যি গণভোট হবে জানতে চান তিনি।
চা দোকানী মকবুল হোসেন বলেন, ‘টিভির খবরে শুনতি পাই এবার ভোটে দুখান ব্যালট দেবে। একখান সংসদ নির্বাচন, আরেকখান গনভোটের। গণভোটের ব্যালটে কোন প্রতীকে সীল মারতি হবে তা বুঝতি পারিনি এখনও।’
শিক্ষার্থি সাদিয়া সুলতানা এবার নতুন ভোট দিবেন। তার কাছে গণভোট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা ইতস্তত হয়ে বলেন, এর আগে ভোট দিতি যাইনি। এজন্য এ সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা নেই। তবে জুলাই সনদের স্বীকৃতির জন্য একটা ভোট হওয়ার কথা আছে বলে জানি। সেই ভোট কিভাবে দিতে হবে তা এখনও জানতে পারেনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়রা উপজেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল গালিব বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে এই গণভোটের আয়োজন। যে উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে তা এই গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। তবে গণভোট সম্পর্কে এখনও সেভাবে প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ এ সম্পর্কে ধারণা পায়নি। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণার দাবী জানান তিনি।
কয়রা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহতারাম বিল্লাহ বলেন, গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষে এখনও কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ি কাজ করা হবে।







