ইসলামী ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জামায়াত নেতা বহিষ্কার

33232.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনার কয়রায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের ঘড়িলাল বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান ওই শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহ। তিনি দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমানের ছেলে। ঘটনা জানাজানির পর গ্রাহকরা ছেলেকে খুঁজে পেতে সহযোগীতার জন্য মতিউর রহমানের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি ছেলেকে হাজির করার জন্য এক সপ্তাহ সময় নেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। এছাড়া টাকা ফেরতের জন্য একটি ফাঁকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে গ্রাহকদের কাছে জমা রাখেন তিনি। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় মতিউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের ঘড়িলাল বাজার এজেন্ট শাখা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায় শাখা ব্যাবস্থাপক। এ ঘটনার পর গ্রাহকরা ওই শাখা ঘেরাও করেন। পরে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ফজলুর রহমান উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিবৃত করতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপকের বাবাকে খবর দেওয়া হলে তিনি সেখানে এসে গ্রাহকদের আশ^স্ত করেন।

জানতে চাইলে দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান বলেন, আমার ছেলে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেখানকার এক কোটি টাকা হিসাবের গরমিল দেখা দেয়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় পদ থেকে আমাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ছেলের অন্যায়ের দায়ে বাবাকে শাস্তি পেতে হয়েছে এমনটি নয়। তিনি (ইউনিয়ন আমীর) সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ না করে ছেলের অন্যায়কে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top