স্ত্রীসহ মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী

11.webp

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেস ডি মাদুরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ স্যোশালে’ এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প ওই পোস্টে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলায় একটি বৃহৎ পরিসরে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে দেশ থেকে বের করে নিয়ে এসেছে।”

তিনি বলেন, “এই অভিযানটি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছিল। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। আজ (স্থানীয় সময় শনিবার) বেলা ১১ টায় মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হবে।”

এর আগে ভেনেজুয়েলা সরকার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে সরাসরি ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। কারাকাসের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করার উদ্দেশ্যেই এই আক্রমণ চালিয়েছে। তবে তাদের সেই চেষ্টা ‘সফল হবে না’ বলেও বিবৃতিতে অঙ্গীকার করা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সারাদেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, রাজধানী কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এটিকে তারা ‘চলমান সামরিক তৎপরতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএর এই বিধিনিষেধ জারির পরই কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেক দিন ধরে মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যেকোনও আক্রমণের মূল লক্ষ্য হবে মাদক চোরাচালান বন্ধ করা। অন্যদিকে মাদুরোর দাবি—ট্রাম্প আসলে ভেনেজুয়েলাকে উপনিবেশ বানাতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের আসল নজর ভেনেজুয়েলার বিশাল জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদের দিকে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর বিজয়কে যেসব দেশ স্বীকৃতি দেয়নি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যে অন্যতম। সূত্র: বিবিসি

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top