নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনার কয়রায় ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের জমাকৃত প্রায় ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহ। তিনি কয়রা উপজেলার দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমানের ছেলে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে তিনি এজেন্ট শাখায় অনুপস্থিত রয়েছেন।
গ্রাহকরা জানিয়েছেন, গত ২২ ডিসেম্বর দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের ঘড়িলাল বাজারে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের হিসাবে টাকা জমা নেই। পরে ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহকে খুঁজতে গিয়ে তাকে না পেয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অনেক গ্রাহক সেখানে ভীড় জমায়। তারাও টাকা তোলার জন্য চেক দিয়ে জানতে পারেন তাদের ব্যাংক হিসাবেও টাকা নেই। বিষয়টি ওই এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ফজলুর রহমানকে জানানো হলে গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষনিক ৭৫ লাখ টাকা গরমিলের হিসাব দেন। এ সময় গ্রাহকরা তার কাছে টাকা ফেরতের দাবী করলে তিনি ১০ দিন সময় নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
ফাহিমা বিবি নামে একজন গ্রাহক জানান, তিনি দেশের বাইরে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখান থেকে ফিরে এসে বাড়ির পাশে ইসলামী
ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। কিছুদিন পর টাকার দরকার হলে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন টাকা নেই। পরে জানা যায় ব্যাংকের ম্যানেজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।
ফাহিমা বিবি বলেন, ‘বাড়ির পাশে ইসলামী ব্যাংকে বিশ^াস কইরে টাকা রাখিছিলাম। কিন্তুক তারা আমাগের মতোন গরীব মানষির বিশ^াস ভেঙে ফেলাইছে।’
গ্রাহক সাইফুল গাজী বলেন, ‘আমাগে এলাকা থেকে কয়রা সদরের দুরুত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এর আগে কষ্ট কইরে কয়রা সদরের ব্যাংকে টাকা জমা রাখতাম। গত বছর এলাকার বাজারে ইসলামী ব্যাংকের শাখা হওয়ায় খুশী হইছিলাম। সেখানে মসজিদ ফান্ডের ৬৫ হাজার টাকা জমা রাখছি। ঘটনা জানতে পেরে খোঁজ নিয়া দেখি মসজিদের টাকাও নিয়ে গেছে ম্যানেজার। বিষয়টি ম্যানেজারের বাবা জামায়াতের আমীর সাহেবকে জানাইছি।’
শহিদুল গাজী নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের প্রতি এলাকার মানুষির অনেক আস্থা ছিল। সেই আস্থা নষ্ট কইরে ফেলাইছে।’
এ বিষয়ে জানতে এজেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাবা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তবে মোস্তাকিম আমার ছেলে হলেও সে পৃথকভাবে সংসার করে। সে এজেন্ট ব্যাংকের টাকা নিয়ে গেছে কীনা তা ওই এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ভাল বলতে পারবেন।’
গ্রাহকের জমা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংক ঘড়িলাল এজেন্ট শাখার উদ্যোক্তা ফজলুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
দক্ষিন বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ওসমান গনি খোকন বলেন, ঘটনা জানাজানির পর গ্রাহকদের প্রাথমিক অভিযোগে ৭৫ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। পরবর্তিতে এ ধরনের অভিযোগ আরও পাওয়া গেছে। সে হিসেবে গ্রাহকদের এক কোটি টাকারও বেশি নিয়ে পালিয়েছে ব্যবস্থাপক মোস্তাকিম বিল্লাহ। বিষয়টি তার বাবা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মতিউর রহমানকে জানানো হলে তিনি ছেলেকে খুঁজে আনার চেষ্টা করবেন বলে দায়িত্ব নিয়েছেন।







