ডেস্ক রিপোর্ট: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ঘটনার ১৬ দিন পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়েছেন—এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুজনের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁরা ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সাক্ষাত্ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও ১৬ দিনেও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত করছে। ডিবি সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামিকে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাঁরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তাঁর বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, লিমার ভাই ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম এবং আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু।
এদের মধ্যে হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, মারিয়া আক্তার লিমা ও ওয়াহিদ আহমেদ সিপু দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামান নোমানীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে বহনকারী অটোরিকশায় গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিত্সার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এ ঘটনায় গতকাল রাজধানীর শাহবাগ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।







