এমপি প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে নতুন নীতিমালা

Ministry-of-Home-Affairs-670d29af1766a-6727525c7a3ec-69401dbcbcb57.jpg

ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্টঃ  রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-৪ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন নীতিমালার নাম হবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকালীন সময়ে পেশিশক্তি ও সহিংসতা প্রদর্শন রোধ করা এবং জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

নীতিমালার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসরকার এ নীতিমালা প্রণয়নের প্রধান কারণ হিসেবে প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকির ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স দেওয়া ও রিটেইনার নিয়োগের অনুমোদনকে চিহ্নিত করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো- নির্বাচনকালীন সময়ে পেশিশক্তি ও সহিংসতা প্রদর্শন রোধ করা এবং জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা।

এই নীতিমালা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং নির্বাচন চলাকালীন মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতাস্বীকৃত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা শুধু আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র; একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না এবং সক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্সের যোগ্য হবে না।

লাইসেন্সের মেয়াদনীতিমালার আওতায় অনুমোদনকৃত লাইসেন্সের মেয়াদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তারিখ থেকে পরবর্তী ১৫ দিন হবে। এ সময়ের পর এমন লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য জারি করা নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রুপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ অতিক্রান্ত হলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী ওই লাইসেন্সের বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজ দখলে রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

রিটেইনার নিয়োগের শর্ত কেবল প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে রিটেইনার নিয়োগ অনুমোদনযোগ্য হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে রিটেইনার নিয়োগ করা বা অনুমোদন করা যাবে না।

কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থী লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কেনার অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। এমন নিয়োগ লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

রিটেইনারের যোগ্যতা

ক) বাংলাদেশি নাগরিক ও ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর;

খ) অপরাধমুক্ত ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্ত;

গ) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (সশস্ত্র বাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন);

ঘ) সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত মেডিকেল ফিটনেস সনদপ্রাপ্ত।

একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগযোগ্য হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের পর রিটেইনারের মেয়াদও শেষ হবে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top