বিদায়ি অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অপশাসনের সহযোগী হয়েছে

1765722475-db4afe7edca1269daf5d620f11efa6f6.jpg

ডেস্ক রিপোর্টঃ  বিদ্যমান অসৎ পন্থা, অযথা হয়রানি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মানসিকতা নির্মূল করা না গেলে বিচার বিভাগ একদিন প্রান্তিক, অপ্রাসঙ্গিক ও অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যদি ভেবে থাকি যে বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতি অবহেলা করেও বিচার বিভাগ তার প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে, তাহলে আমরা প্রকৃত অর্থেই এখনো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছি।’

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ি অভিভাষণে একথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর ১০ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন শপথ নিয়ে বিচার বিভাগের দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই প্রধান বিচারপতি ‘কার্যকর স্বাধীন বিচার বিভাগ’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। সে জন্য গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন তিনি। সেদিনের অভিভাষণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে স্বতন্ত্র-স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।

এরপর বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদায়ন-বদলি ও শৃঙ্খলায় আচরণবিধি প্রণয়ন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেন। তার ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ কেন্দ্র করেই গত দেড় বছর বিচার বিভাগে বিভিন্নমুখী সংস্কার হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন অনেকে।

বিদায়ী অভিভাষণে এসব বিষয় তুলে ধরে সৈয়দ রেফাত আহেমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি থাকার পরেও এদেশের জনগণ কোনদিন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি।

বিদ্যমান অসৎ পন্থা, অযথা হয়রানি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মানসিকতা নির্মূল করা না গেলে বিচার বিভাগ একদিন প্রান্তিক, অপ্রাসঙ্গিক ও অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যদি ভেবে থাকি যে বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতি অবহেলা করেও বিচার বিভাগ তার প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে, তাহলে আমরা প্রকৃত অর্থেই এখনো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছি।’

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ি অভিভাষণে একথা বলেন বিচার বিভাগের প্রধান। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর ১০ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পরদিন শপথ নিয়ে বিচার বিভাগের দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই প্রধান বিচারপতি ‘কার্যকর স্বাধীন বিচার বিভাগ’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। সে জন্য গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন তিনি। সেদিনের অভিভাষণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে স্বতন্ত্র-স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।

এরপর বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদায়ন-বদলি ও শৃঙ্খলায় আচরণবিধি প্রণয়ন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের পদক্ষেপ নেন। তার ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ কেন্দ্র করেই গত দেড় বছর বিচার বিভাগে বিভিন্নমুখী সংস্কার হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন অনেকে।

বিদায়ী অভিভাষণে এসব বিষয় তুলে ধরে সৈয়দ রেফাত আহেমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি থাকার পরেও এদেশের জনগণ কোনদিন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। অর্জনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থেকেও বারবার ফিরে এসেছি।

গত ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর গত ১০ ডিসেম্বর সেই সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি। সচিবালয়ের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রধান তার অভিভাষণে বিচারকদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সামর্থ্য এখানে কোনো অন্তরায় নয় বলে আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি।

প্রয়োজন কেবল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর। নাগরিকের সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ-উন্নয়নে বিচারকদের অবদানকে যথার্থ মর্যাদায় উপলব্ধি করা দরকার। কৃচ্ছসাধনের নামে বিচারকদের দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করে রাখার পুরনো নীতি পরিত্যাগ করতে হবে।

প্রযুক্তিগত বৈশ্বিক রূপান্তর থেকে বিচার বিভাগ বিচ্ছিন্ন নয় মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা যদি এখনও ক্ষমতাকেন্দ্রিক, প্রভু-ভৃত্য চেতনায় আবদ্ধ থাকি এবং বিচারিক সেবাকে নাগরিক-অধিকার না ভেবে প্রশাসনিক দয়া হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থার বেসরকারীকরণ বা সালিশ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার পূর্ণ আধিপত্যকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রিয় কপট-কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হয়েছে। দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন অনেক বিচারক। অন্যায়-অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিচারকদের এই নৈতিক বিচ্যুতি জনসাধারণকে শেষ পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক। সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৬৭ বছরের পর আর বিচারক পদে থাকার সুযোগ নেই। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সে হিসাবে চলতি বছর ২৭ ডিসেম্বর তার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। সে হিসাবে সৈয়দ রেফাত আহমেদ আর মাত্র ১৩ দিন প্রধান বিচারপতি পদে আছেন। তাই উত্তসূরি প্রধান বিচারপতির প্রতি কিছু দিক নির্দেশনাও তুলে ধরেছেন তাঁর অভিভাষণে।

প্রধান বিচরপতি বলেন, আমি বিশ্বাস করি তাঁর নেতৃত্বে পৃথক সচিবালয় কেবল একটি আইনি-কাঠামো হয়ে থাকবে না; বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিচার বিভাগের জন্য গঠিত স্বতন্ত্র সচিবালয়কে বাস্তবিক অর্থে কার‌্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলপ্রসূ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উত্তরসূরি প্রধান বিচারপতিকে কী করতে হবে, বিদায়ী অভিভাষণে সেই দিক নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি।

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, পৃথক সচিবালয় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে এদেশের আপামর জনসাধারণের সাংবিধানিক সকল অধিকার সুরক্ষিত করার প্রধান নিয়ন্তা হিসাবে প্রতিষ্টিত করতে হবে। অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারকদের দ্বারা সৃষ্ট যাবতীয় অন্যায়ের জন্য এখন থেকে অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ বন্ধ করতে হবে। জনগণের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ে সুবিচার নিশ্চিত করতে শতভাগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। পছন্দসই পদায়নের জন্য রাজনৈতিক পদলেহন পরিহার করতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, আইন বৃহত্তর রাজনীতির একটা অঙ্গ হলেও বিচারকদেরকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠার প্রয়াস রপ্ত করতে হয়। কেবল ক্ষমতাবান শাসকশ্রেণির পক্ষে ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব নিলে বিচার বিভাগের আলাদা কোনো অস্তিত্বেরই প্রয়োজন নেই। সে কাজের জন্য নির্বাহী বিভাগ ও পুলিশই যথেষ্ট। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি যে আদর্শকে ধারণ করেই গড়ে উঠুক না কেন, বিচারকদেরকে সুনীতি ও সুবিবেচনা বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতির বিদায়ি অভিভাষণে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জুয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top