ডেস্ক রিপোর্টঃ পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল নিয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের পরই এই শুনানি পুনরায় শুরু হবে।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনরদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করার পর মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানে নানা পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতি ওই বছরের ৩ জুলাই আইনে স্বাক্ষর দেন। এ সংশোধনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা, ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল, জাতীয়তাবাদ–সমাজতন্ত্র–গণতন্ত্র–ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সংযোজনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন যুক্ত হয়।
এ ছাড়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যোগ করা হয়। নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমাও পরিবর্তন করে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত হয়।
এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবি জানিয়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন হাইকোর্টে রিট করেন। গত বছরের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চায়—পঞ্চদশ সংশোধনী কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না। পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইন্টারভেনর হিসেবে যুক্ত হন।
নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথক একটি রিট করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয়। আবেদনকারীদের আইনজীবীদের মতে, রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত ধারা, সংবিধান স্থগিত বা মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের অযোগ্যতা–সম্পর্কিত ৭ ক ও ৭ খ, মৌলিক অধিকার প্রতিকার বিষয়ে হাইকোর্টের ক্ষমতাহ্রাসকারী ৪৪(২), এবং গণভোট বাদ দেওয়ার বিষয়টি সংশোধনকারী ১৪২ অনুচ্ছেদ—সব বাতিল হয়েছে।
তারা এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, রায়ের ফলে গণভোটের বিধান আবার কার্যকর হলো।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি লিভ টু আপিল করেন। মোফাজ্জল হোসেন, জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরীও আপিলে পক্ষভুক্ত হন। আবেদনকারীদের দাবি, পুরো সংশোধনী বাতিল করতে হবে।







