ডেস্ক রিপোর্টঃ আসন বণ্টন নিয়ে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে তৈরি হওয়া টানাপড়েন কমাতে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৭টায় গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে অংশ নিতে ১৫ জন মিত্র রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতরা পাঁচ দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং গণফোরামের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
মিত্র পাঁচটি দলের একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানান, গুলশানে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তারা এবং এতে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা বৈঠকে থাকবেন।
মিত্র নেতারা বলেন, দ্রুত আসন ভাগাভাগির স্পষ্ট সমাধান চান তারা, যাতে জনগণের কাছে কোনো নেতিবাচক বার্তা না যায় এবং এটা না মনে হয় যে বিএনপি ও সহযোগী দলগুলোর মধ্যে বিরোধ আছে। তাঁরা বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগোতে চান।
এর আগে বুধবার আসন সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে মিত্র দলগুলো নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে। পল্টনে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২৯টি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে বিএনপির ঘোষণা করা আসন তালিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং দ্রুত বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হয়।
যোগদানকারী দলগুলোর মধ্যে ছিলেন গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, সমমনা জোট, নেজামে ইসলামী পার্টি ও গণফোরামের নেতারা। উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির মধ্যে ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি, মোস্তফা জামাল হায়দার, এহসানুল হুদা, নুরুল হক নুর, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সুব্রত চৌধুরী ও আশরাফুল ইসলাম।
বৈঠক শেষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “বিএনপি তীরে এসে তরী ডুবাতে চাইছে—বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। দুই ধাপে যেভাবে তারা আসন দিয়েছে, তাতে আমরা হতাশ। মনে হয়েছে বিএনপি একলা পথে হাঁটছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত সমাধান চাই।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে জামায়াত তাদের সহযোগী বাড়াচ্ছে, সেখানে বিএনপি মিত্রদের পাশে না রেখে কমিয়ে দিচ্ছে—এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” তাঁর মতে, এ আচরণ মিত্রদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করছে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তফসিল ঘোষণার সময় এসে গেলেও বিএনপি এখনও মিত্রদের সঙ্গে বসেনি। তারা ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে—তাহলে মিত্রদের জায়গা কোথায়?”
মিত্র সাতটি দলের নেতারা জানান, বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থান তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও তাঁরা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান না; যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা চায়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে বিএনপির বৈঠকও ফিরতি ফল দেয়নি। আসন সমঝোতা না হওয়ায় সাইফুল হক বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই বের হয়ে যান।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ৩ নভেম্বর প্রথম ধাপে ২৩৬ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। পরে ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬ আসনে মনোনয়ন দেয়। মোট ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে; বাকি ২৮টি আসনে মিত্ররা প্রার্থী হতে পারেন বলে জানায় বিএনপি।
মিত্রদের দাবি—বিএনপির অনুরোধে তারা প্রার্থী তালিকা দিলেও আলোচনা ছাড়াই বিএনপি একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তালিকায় অন্তত ছয়টি আসন এমন ছিল যেখানে অনিবন্ধিত মিত্ররা ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিল।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, দলটি কোনোভাবেই মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। মিত্র দলগুলোকে মূল্যায়ন করেই সমঝোতার পথ খুঁজবে বিএনপি।







