থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে লড়াই অব্যাহত, ট্রাম্পের ফোনকলের অপেক্ষায়

1765439885-d82319912041449cd31bdb7e7569d171.jpg

ছবিসূত্র : রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্টঃ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। উভয় দেশই এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, তিনি আগের মতোই আবার এই দুই দেশের লড়াই বন্ধ করতে পারবেন।

বুধবার থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তের ৮১৭ কিলোমিটার জুড়ে ১২টিরও বেশি স্থানে তীব্র লড়াই হয়েছে।

জুলাই মাসে পাঁচ দিনের যুদ্ধে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তার পর এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। জুলাইয়ে ট্রাম্প দুই দেশের নেতাকে ফোন করে যুদ্ধ থামিয়েছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন, লড়াই না থামলে বাণিজ্য আলোচনাও বন্ধ করে দেবেন। এবারও তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমি তাদের যুদ্ধ থামাতে পারব।

আগামীকালই তাদের সঙ্গে কথা বলার কথা আছে।’ তবে এবার থাইল্যান্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতার প্রস্তাবে বেশি সতর্ক। আনোয়ার এর মধ্যস্থতায় আগেই অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। থাইল্যান্ড বলছে, সমস্যাটি দুই দেশই নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেবে।
ইব্রাহিম জানান, তিনি মঙ্গলবার দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চূড়ান্ত সমাধান না হলেও উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। বৃহস্পতিবার থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ট্রাম্প ফোন করলে তিনি সরাসরি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন। তিনি বলেন, ‘তিনি যদি ফোন করেন, তবে সবকিছু আমার কাছ থেকেই শুনতে হবে।’

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুইপক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষ শুরুর জন্য দোষ দিচ্ছে।

দুই দেশই অভিযোগ করছে, সাধারণ মানুষ বসবাস করা এলাকায় কামান ও রকেট হামলা চালানো হচ্ছে। আনুতিন বলেন, ‘কেউই সংঘাত চায় না, বিশেষ করে প্রতিবেশীর সঙ্গে। কিন্তু থাইল্যান্ড নিশ্চিত যে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।’
কম্বোডিয়া বলছে, থাইল্যান্ডের গোলাবর্ষণ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হামলায় তাদের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত ঘরবাড়ি, স্কুল, রাস্তা, মন্দিরসহ অনেক কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, থাইল্যান্ড স্কুল ও মন্দিরসহ বেসামরিক জায়গায় নৃশংস আক্রমণ চালাচ্ছে। থাইল্যান্ড অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংঘর্ষে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কম্বোডিয়ায় এক শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছে। থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ৯ জন সেনা নিহত ও ১২০ জনের বেশি আহত হয়েছে। সীমান্তের দুই পাশ থেকেই লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top