ডেস্ক রিপোর্টঃ ভোটের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে বরিশাল বিভাগের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবার সেই স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করেছে। প্রচারণা শুরুর পরই কোথাও সংঘর্ষ, কোথাও প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
ঘটনাগুলো আলাদা মনে হলেও একসাথে দেখলে স্পষ্ট হয়—একই রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে পরপর হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সম্পর্ক দ্রুত তিক্ত হচ্ছে এবং মাঠের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি কেবল ঘটনাক্রম, নাকি বড় কোনো পরিস্থিতির পূর্বাভাস?
গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো সন্দেহ আরও ঘনীভূত করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঝালকাঠির নলছিটির মোল্লারাট এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হন। স্থানীয়দের মতে, এর আগের দুই সপ্তাহ ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছিল।
একই দিন বরিশাল নগরের কাশীপুরে বিএনপি–সমর্থিত এক সাবেক কাউন্সিলরের অনুসারীদের হামলায় আহত হন জামায়াতের আরও এক কর্মী। দুই জেলায় একই দিনে একই দলের দুই কর্মীর ওপর এমন হামলাকে বিশেষজ্ঞরা আর আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।
এর আগের দিন মুলাদীর মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে ছাত্রদলের এক অংশ এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে অপমান ও লাঞ্ছিত করে। ফেরিঘাটের দোকানদারদের দাবি—এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তাদের মতে, ঘটনার আগে কয়েকজনকে ফোনে বিভিন্ন নির্দেশনা নিতে দেখা গেছে।
এবি পার্টির অভিযোগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
৫ ডিসেম্বর বাউফলের কনকদিয়া বাজারে জামায়াত নেতা রাসেদুল ইসলামের ওপর ‘ওত পেতে’ হামলার অভিযোগও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে ছয়টি ঘটনার টার্গেট ছিল একই দল। এটি কি কেবলমাত্র কাকতালীয়, নাকি চাপ সৃষ্টির একটি নির্দিষ্ট কৌশল—এ নিয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে দুই পক্ষের কর্মীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতির অবস্থান তাদের বিব্রত ও বিপাকে ফেলছে।






