৪০ ফুট মাটি খুঁড়েও উদ্ধার হয়নি শিশু সাজিদ

1765426414-b4e8558919527d193c056d8093a21e0b.jpg

রাজশাহীর তানোরে ৩০-৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

ডেস্ক রিপোর্টঃ রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে আটকে থাকা শিশু সাজিদকে উদ্ধারে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তিনটি এক্সকেভেটরের সাহায্যে পাশেই প্রায় ৪০ ফুট গভীর আরেকটি গর্ত খুঁড়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরপর মূল গর্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্যে উদ্ধারকর্মীরা টানেল করার কাজ শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই বছর বয়সী স্বাধীন তানোরে একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। মায়ের হাত ধরে ধান কাটা জমির ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ সে নিচে তলিয়ে যায়। সাজিদ কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবের ছেলে। রাকিব ঢাকার একটি জুট মিলে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়রা জানায়, গত বছর গভীর নলকূপ বসানোর জন্য প্রায় ৩০–৩৫ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। পরে তা মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও বর্ষাকালে মাটি ধসে গিয়ে আবারও গর্তটি তৈরি হয়। সেই গর্তেই পড়ে যায় শিশুটি। প্রথমে শিশুটির কিছু সাড়া পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আর পাওয়া যায়নি।

বিকেল ৪টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হলে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এতে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি অপসারণে প্রশাসনকে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে।

দিদারুল আলম জানান, উদ্ধারকারী দল টানেল করে অনুসন্ধান করছে। খুব শিগগিরই তারা নিশ্চিত হতে পারবেন শিশুটি ৪০ ফুটের মধ্যে আছে কিনা। তিনি বলেন, “যদি ওই গভীরতার মধ্যে পাওয়া না যায় এবং শিশুটি আরও নিচে নেমে গিয়ে থাকে, তাহলে আমাদের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যেখানে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম।”

তিনি আরও বলেন, “ভিকটিম আটকে থাকতে পারে এমন জায়গার চার ফুট আগে পর্যন্ত আমরা টানেল করেছি। সেখানে সে আছে কিনা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল যেমন কোনো সাড়া পাইনি, আজও পাইনি। ৩০–৩৫ ফুট পর্যন্ত না পাওয়া গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের অনুমতি নিয়ে আরও গভীরে লোহার যন্ত্র ব্যবহার করার চিন্তা করছি।”

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top