ডেস্ক রিপোর্টঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “একজন রাজনীতিক একবার মন্তব্য করেছিলেন—যে দেশে মানুষের বড় অংশ বেকার, আয়হীন, ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র, সে দেশে বিশাল ভবন, সড়ক বা সেতু নির্মাণ করা মানে যেন কবরস্থানে আলোকসজ্জা করা। আপনি কবরস্থানে আলোকসজ্জা করলে তা সাময়িকভাবে সুন্দর দেখাতে পারে, কিন্তু চারপাশে অন্ধকারই থেকে যায়। এটিকে প্রকৃত উন্নয়ন বলা যায় না।”
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “দেশে উন্নয়ন হয়েছে—উঁচু দালান, এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন ট্রেন—সবই এসেছে। কিন্তু পাশাপাশি মানুষের মৌলিক ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ হয়নি।”
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, “পত্রিকায় দেখেছি, জনসংখ্যার অনুপাতে কোটিপতি বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। প্রতিবছর অনেক মানুষ কোটিপতি হচ্ছে, অথচ একই সময়ে লাখো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। দুই চিত্রের এই বৈপরীত্যকে উন্নয়ন বলা যায় না।”
তিনি জানান, “কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনারা শুনবেন বিএনপি কেমন উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে কী পরিকল্পনা রেখেছে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না—মানুষকে শিক্ষিত করতে চাইলে কিভাবে তা করা হবে, আয় বাড়াতে চাইলে কীভাবে হবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে কীভাবে—এসব প্রশ্নেরও সমাধান আমরা দেব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজ প্রকাশিত একটি জরিপে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—আগামী নির্বাচনে কোন দল বেশি আসন পেতে পারে? ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে বিএনপি, ২৬ শতাংশ বলেছে জামায়াতে ইসলামী। পার্থক্য ৪৪ শতাংশ। অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান এই দুই দলের তুলনায় অনেক নিচে—অনেকেই এক শতাংশের কাছাকাছিও নয়। এই বাস্তবতা দেখে কেউ কেউ হতাশ হয়ে ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হতে পারে, কিন্তু জনগণ তা সফল হতে দেবে না।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। জেলা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক দল ও ওলামা দলের প্রথম সারির পাঁচজন নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।







