ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে ঘিরে নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন এবং গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা বার্তায় তিনি বলেন, সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো যৌক্তিক ও সম্মানজনক বিতর্ক; ব্যক্তিগত আক্রমণ কেবল অসহিষ্ণুতা উদ্রেক করে।
প্রেস সচিব আরও জানিয়েছেন, বিদেশি সংবাদদাতা হিসেবে সম্ভবত তিনি প্রথমেই ফুলবাড়ী হত্যাকাণ্ডের খবরটি সম্প্রচার করেন। তিনি স্মরণ করেন, “বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছে—এই সত্য স্বীকার করাতে পুলিশকে কতটা বোঝাতে হয়েছিল।” তখন তিনি ঢাকায় এএফপি’র সংবাদদাতা ছিলেন। এশিয়ান এনার্জি কোম্পানির লন্ডন ভিত্তিক তালিকাভুক্তির কারণে এই খবর যুক্তরাজ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, সেই সময়ও তিনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং আজও তা অব্যাহত আছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বছরের পর বছর ধরে পুলিশ ও বর্ডার গার্ডরা বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত সহিংসতা প্রয়োগ করেছে। এই সহিংসতার চক্র ভাঙার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে।”
সম্প্রতি ফুলবাড়ী ওপেন-পিট খনন প্রকল্প নিয়ে তার ব্যক্তিগত পোস্টের পর আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, “আমার সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত পোস্টটি এসেছে সরকারের সঙ্গে ১৬ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে। বাংলাদেশ এখনও স্বল্পোন্নত দেশ; আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এটি প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। যদি আমি এখনো এএফপি’তে থাকতাম, হয়তো বর্তমান অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে সমালোচনা করতাম।”
জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য—সরকারে যোগ দেওয়ার পর এটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সংঘাত অন্যত্র এলএনজি ও জ্বালানির দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর আমাদের পাঁচ থেকে দশ গুণ বেশি মূল্যে এলএনজি কিনতে হয়েছে। সেই দামে ক্রয় করা সম্ভব নয়। তখন আমাদের দুটি বিকল্প থাকে—রিজার্ভ শেষ করে এলএনজি কিনা, নাকি মাসের পর মাস কারখানা বন্ধ রাখা।”







