ডেস্ক রিপোর্টঃ খুলনা-১ আসনে জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পেজে কিছু ছবি শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ছবিগুলো ব্যবহার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে সমালোচনা জোরদার করেছেন।
তবে কৃষ্ণ নন্দী এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ ভুয়া ও কৃত্রিমভাবে বানানো বিষয়। আমার কখনো মদ্যপানের অভ্যাস ছিল না, আর ভারতের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমার কোনো বৈঠকও হয়নি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী কৃষ্ণ নন্দীর বাড়ি ডুমুরিয়ার চুকনগরে। তাঁর বাবা-দাদাও সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা করেছেন চুকনগর দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তাঁর বাবা একসময় মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৩ সালে জামায়াতের মিয়া গোলাম পাওয়ারের মাধ্যমে কৃষ্ণ নন্দী দলে যোগ দেন। গত বছর তাকে জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর জামায়াতের হিন্দু সমাবেশে তাঁর নেতৃত্বে বড় জমায়েত হয়। এরপর থেকেই তাকে প্রার্থী করার আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে ৩ ডিসেম্বর হিন্দু অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনে জামায়াত তাকে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করে। ৫ ডিসেম্বর থেকে তিনি বটিয়াঘাটা এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, গত ৫ ডিসেম্বর জুলকারনাইন তার ফেসবুকে কৃষ্ণ নন্দীর তিনটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, এগুলো ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা আইবির এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের। তবে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন—ছবিগুলোর মেটাডেটা পাওয়া যায়নি, তাই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না। তবুও সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, “আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করতে এসব ভিত্তিহীন ছবি ছড়ানো হচ্ছে। এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমি মদ্যপান করি না—এটা মিথ্যা। প্রচারণায় ভালো সাড়া পাওয়ায় এবং মুসলিম ভোটারদের সমর্থন বাড়ছে দেখে কেউ কেউ ঈর্ষা থেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”







