খুলনায় আদালতের সামনে গুলি
করে দুই দুজনকে হত্যা
আনোয়ার আলী—-
খুলনা নগরীতে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা গুলি ও কুপিয়ে ফজলে রাব্বি রাজন (৩১) ও হাসিব হাওলাদার (৪৫) নামে দুইজনকে হত্যা করেছে। রবিবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে এবং সার্কিট হাউজের প্রধান ফটকের ঠিক উল্টোদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে রাব্বি রাজন রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের এজাজ শেখের ছেলে ও হাসিব হাওলাদার নগরীর নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। নিহত রাজন ও হাসিব শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মাদকসহ ছয়টি করে মামলা রয়েছে। দুজনেই অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসছিলেন।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট ফাঁকা ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আদালতে আসা মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজন ও হাসিব অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল রেখে চা পান করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নম্বরবিহীন এফ জেড নামের ঐ মোটর সাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা চার থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসী হেঁটে এসে প্রথমে তাদের মাথায় পর পর চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। গুলির আঘাতে তারা রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুইজন মোটরসাইকেলের ওপর বসেছিল। এ সময় হঠাৎ চার-পাঁচজন যুবক আসে। তখন তাদের মধ্যে মাথায় ক্যাপ পরা একজন পর পর চার-পাঁচটি গুলি করে। এরপর অন্যরা তাদের চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে হাসিব হাওলাদার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরো জানায়, আদালত এলাকার কাছে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস দাঁড়িয়েছিল। সন্ত্রাসীরা ঘটনার পর ঐ মাইক্রোবাসে উঠে জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে কাস্টমঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। এ সময় তাদের পাহারায় ছিল চারটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক। গুলির শব্দ ও জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবর আদালত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। ভয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আসা লোকজন ও আইনজীবীরা দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। অনেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এদিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শামীম হাসার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ফজলে রাব্বি রাজনের লাশ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। তবে হাসিবের লাশ ইজিবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে কে বা কারা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে পরে তার লাশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য আনা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন রবিবার সকালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে লাল দুটি মর্গে ফ্রিজিং করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ মার্চ রাতে যৌথাবাহিনীর হাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশের সঙ্গে রাজন ও হাসিব গ্রেফতার হয়। আড়াইমাস আগে উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। গতকাল রবিবার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলায় তাদের আদালতে হাজিরার দিন ছিল। দুপুরে তারা আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ সন্ত্রীদের গুলিতে নিহত হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত রাজন ও হাসিব খুলনার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পলাশ গ্রুপের সদস্য। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় হত্যাসহ ছয়টি করে মামলা রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে নগরীর সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানাসহ অন্যান্য থানাতেও একাধিক মামলা রয়েছে।







