নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা থেকে কয়রা রেল চলাচলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। সোমবার উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আয়োজনে এক নির্বাচনী সভায় এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এতে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ওই সভায় উপস্থিত অনেকেই জামায়াত প্রার্থীর এমন প্রতিশ্রুতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই এটাকে অবাস্তব এবং কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেও নিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নির্বাচনী সভায় উপস্থিত সমাজকর্মী তরিকুল ইসলাম বলেন, যা আদৌ সম্ভব হবে না, এমন প্রতিশ্রæতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়। কেবল একটি উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে রেল লাইন স্থাপন অযৌক্তিক। কারণ দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ উপজেলা এটি। এর পরে আর কোন জনবসতি নেই। তাছাড়া কোন বন্দর অথবা কোন বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নেই এখানে।
রেলওয়ে খুলনার বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসউদুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেল লাইন দেশের ৪৪টি জেলায় সংযুক্ত রয়েছে। একটি উপজেলার জন্য আলাদা কোন রেল লাইন নেই। তাছাড়া রেললাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে মাটি গুরুত্বপূর্ণ। নরম ও দুর্বল মাটি রেললাইন স্থাপনের জন্য উপযোগী নয়।
সভায় উপস্থিত জামাল ফারুক নামে এক ব্যাক্তি বলেছেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ থাকলেও উপকূলীয় এ জনপদে নেই। রেল যোগাযোগ চালু হলে এলাকার সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে।
ওই নির্বাচনী সভার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে জামায়াতের প্রার্থীকে বলতে শোনা গেছে, ‘উপকূলীয় এ জনপদটি সব সময় অবহেলিত থেকে গেছে। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি যেমন হয়নি, তেমনি চিকিৎসা ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটেনি। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে এ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে চিকিৎসাকেন্দ্র বা ক্লিনিক স্থাপন করা হবে। এটা আমাদের জন্য অসম্ভব নয়। কারণ, আমাদের (সংগঠনের) সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরোয়ার সাংসদ নির্বাচিত হলে তিনি মন্ত্রী হবেন এটা ধরে নেওয়া যায়। তিনি মন্ত্রী হলে তখন আমাদের সব কাজ সহজে হয়ে যাবে।’
নির্বাচনী সভায় এমন প্রতিশ্রুতি প্রসংগে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ভোটার আকৃষ্ট করতে এভাবে অবসাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক না। শুনেছি ওই নির্বাচনী সভায় তিনি খুলনা থেকে কয়রা রেললাইন স্থাপন করার কথা বলেছেন। এটা অসম্ভব ব্যাপার। এছাড়া তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে হাসপাতাল করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা-ও অযৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি।
জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যশোরের বেনাপোল হয়ে সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত রেল যোগোযোগ চালুর একটি প্রস্তবনা রয়েছে। ওই লাইনের অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা বড়দল হয়ে কয়রা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।’







