কয়রা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতীক শাপলা কলি নিয়ে লড়তে চান মাছ চাষী শাহজান সরদার। এ জন্য গত ২০ নভেম্বর এনসিপির কেন্দ্রিয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি।
শাহজান সরদার উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাটমারচর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে দুই বার তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচন করেছেন। পেশায় তিনি একজন মাছ চাষী। বাবা নেই মা আছেন। আর আছেন স্ত্রী ও দুই সন্তান। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শেণিতে পড়ে।
শাহজান সরদার বলেন, ‘এই দেশে দেখতি পাই রাজার ছেলে রাজা হয়, চিয়ারম্যানের ছেলে হয় চিয়ারম্যান। আমাগের মতো সাধারণ মানুষরা খালি তাগের ভোট দেই। এক সময় ভাবতাম ওসব আমাগের জন্যি না। কিন্তু ২৪ এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সেই ধ্যানধারনার বদল ঘটিছে বলে মনে হয়। আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিছে তারা সকলেই আমাগের মতো সাধারণ ঘরের সন্তান। তারা নতুন দল করিছে। আমি ঢাকায় গিয়ে সরাসরি সেই দলের মনোনয়ন কিনিছি। আমার বিশ^াষ আছে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি শাপলা কলি প্রতীক নিয়া নির্বাচন করবো।’
এর মধ্যে তিনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন। এলাকার মানুষও আগ্রহ নিয়ে তার কথা শুনছেন। গুছিয়ে বলতে না পারলেও এলাকার সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্খার কথাগুলো বলে যাচ্ছেন তিনি। অনেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। কিন্তু সে সব গায়ে মাখছেন না তিনি। নিজের মতো প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শাহজান সরদারের স্ত্রী মোহছেনা আকতার বলেন, ‘লোকটা জনসেবার জন্যি ব্যস্ত থাকে বেশি সময়। এলাকার মানুষির কোন সমস্যা হলি আগে গিয়ে খোঁজখবর নিবার চেষ্টা করেন। দু’বার এলাকায় মেম্বার ভোটে দাড়ায়ছিল। সকলেই ভোট দেছে, কিন্তু শেষে গিয়ে তাকে জিততে দেওয়া হয় না বলে আমাগের ধারণা। প্রত্যেকবার তাকে অল্প ভোটে হারতে হয়েছে। এবারও ভোটে দাড়াবার কথা বলে বেড়াচ্ছে। আমরা বারন দিলিও শুনছে না। অনেক টাকা খরচ কইরে ঢাকা গিয়া নেতাদের সাথে দেখা করে আইছে। বাড়ি আইসে আবার নেমে পড়েছেন ভোটে। বলছেন এবার আর কেউ তাকে জোর কইরে হারাতি পারবে না।’
তাদের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শাহজান সরদার এলাকায় ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার অর্থকড়ি না থাকলেও জনসেবার নেশা রয়েছে। সেই নেশাই তাকে এবারের সংসদ নির্বাচনে টেনে এনেছে। ভোটের জন্য দিন-রাত মানুষের কাছে যাচ্ছেন। ভোটে জিতলে এলাকার উন্নয়নের জন্য কি করবেন সেসব কথা তুলে ধরছেন। তার ধারনা গত কয়েক বছর দেশে ভোটের পরিবেশ ছিল না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সে পরিবেশ ফিরে এসেছে। এবার মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। জোর করে আর কাউকে হারাতে পারবে না।







