১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় টিকে থেকে ফ্যাসিস্ট
সরকার জনগণের ভবিষ্যৎ লুট করেছে: বকুল
নিজস্ব প্রতিবেদক –
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “জনগণের ভোট লুট করে ক্ষমতায় থাকা এই সরকারের সময় শুধু ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও তাদের অনুসারীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে,আর সাধারণ মানুষ আজও কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।” রবিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে খুলনা নগরীর দৌলতপুর থানাধীন ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ নারী ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বকুল বলেন, “বিএনপি যদি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে এবং প্রথম ধাপেই এক কোটি শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চাল,ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যাবে।হেলথ কার্ড’ চালু করে নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।নারীদের স্বাবলম্বী করতে অনলাইনভিত্তিক কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে বসে আয় করতে পারেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন,এই সরকার ১৭ বছর দেশ শাসন করেছে, কিন্তু মা-বোনদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। টিসিবি কার্ড থেকে শুরু করে সরকারি ভাতা সব জায়গাতেই চলছে লুটপাট। জনগণের প্রাপ্য বরাদ্দ তারা নিজেদের পকেটে তুলেছে। বকুল ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশে জনগণের সুখে-শান্তিতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ‘৭৪ সালে আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমার ভাগের কম্বলটা গেল কই?’ এবং ‘সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।’দুর্নীতির সূচনা তখনই হয়েছিল।
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশের ক্রান্তিকালের ত্রাণকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “দেশ যখন নেতৃত্বহীন, তখন জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেন। দেশের যেকোনো দুর্যোগে বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে।”
জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বকুল বলেন, “আমি ভোট চাইতে আসিনি, এসেছি আপনাদের কথা শুনতে এবং আমাদের পরিকল্পনা জানাতে। আগামীতে যে-ই ভোট চাইতে আসুক, তাকে প্রশ্ন করবেন—এতদিন কোথায় ছিলেন, আর আমাদের জন্য কী করেছেন?” তিনি নিজেকে দেশনায়ক তারেক রহমানের বার্তাবাহক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমার নেতা আমাকে পাঠিয়েছেন জানতে—আপনারা কেমন আছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো থাকবেন। বিএনপি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর থানা মহিলা দলের আহবায়ক সালমা বেগম। সঞ্চালনা করেন মদিনা হাওলাদার ও জি. এম. জাকারিয়া। উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন। পরে বকুল মহেশ্বর পাশা মহাশ্মশান পরিদর্শন করেন এবং দৌলতপুর রেলিগেট মোড়ে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি সংবলিত লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের ভোটের গণসংযোগ করেন।
১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় টিকে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভবিষ্যৎ লুট করেছে: বকুল







