ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রমোদভ্রমনে, সেবা কার্যক্রম বন্ধ

koyra.jpg

কয়রার দক্ষিন বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সিলেটের ভোলাগঞ্জে প্রমোদভ্রমনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা প্রমোদ ভ্রমনে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশি জনসাধারণ। গত সোমবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার সকাল ১১টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সব কক্ষে তালা বন্ধ দেখা গেছে। সেখানে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন সেবা প্রত্যাশিরা। ফিরোজা বেগম নামে এক নারী এসেছিলেন তার মাতৃত্বকালিন ভাতার বিষয়ে খোঁজ নিতে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে কাউকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে।

ফিরোজা বেগম জানান, গত দুই দিন ধরে তিনি সেখানে এসে ফিরে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যানের বাড়ি গিয়ে জানতে পারেন তিনি সিলেটে গেছেন ভ্রমনে।

নিরাপদ মন্ডল ও বিভাশ রায় নামে দুই ব্যাক্তি এসেছিলেন প্রায় ৪ কিলোমিটার দুর থেকে। বাঁধের কাজের জন্য তাদের রেকর্ডিও জমি ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন তারা। পরিষদে কাউকে না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় দেখা হয় তাদের সঙ্গে। এসময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে ইউনিয়ন পরিষদের সব কাজ বন্ধ করে বেড়াতে যাওয়া অন্যায়। অন্তত কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল।

পরিচয়পত্র নিতে আসা রফিকুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিন ধরে পরিষদে আসতিছি আর ফিরি যাতি হচ্ছে। এভাবে চিয়ারম্যান-মেম্বর-সচিব সকলেই যদি ভ্রমনে যায় তালি আমাগের কাজ কইরে দ্যাবে কেডা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও ৮ জন সদস্যসহ প্রায় ১৫ জনের একটি দল দুটি গাড়ীতে করে সিলেট ভ্রমনে চলে গেছেন। তবে সেখানে তারা কত দিন থাকবেন তা জানাতে পারেনি কেউ। এ সময় পরিষদের সেবা কার্যক্রম চালু রাখতে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে জানা যায় আবু বক্কার নামে একজন ইউপি সদস্য এলাকায় রয়েছেন। পরে তার কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছেন, শারিরীক অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি তিনি। তবে অন্য সকলেই গেছেন। এভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ফাঁকা করে ভ্রমনে যাওয়া ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি।

ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইনজীবি মনজুরুল আলম বলেন, শুনেছি পরিষদের সকলেই পিকনিকে গেছে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে এভাবে ইউনিয়ন অরক্ষিত রেখে পিকনিকে যাওয়া ঠিক হয়নি। সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গনি মুঠোফোনে প্রথমে বলেন তিনি পরিষদের কাজে ঢাকায় আছেন। পরে অন্যন্য সদস্য, সচিব ও উদ্যোক্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সিলেট ভ্রমনে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পরিষদের সকলের অনুরোধে আসতে হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউএনও’র অনুমতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বিষয়টি ‘নেগেটিভ’ ভাবে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, তারা মৌখিভাবে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমাকে জানিয়েছিলেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top