খুলনা-৬ আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপির ‘গ্রীন সিগনাল’ চলছে জল্পনা-কল্পনা

৩৩২২২.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আসনটিতে বিএনপির দলীয় মনোনয়নের আশায় ৬ জন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি খুলনা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রতি আসন থেকে দলীয়ভাবে একজনকে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হবে। সকলকে তার পক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। এরপর থেকে এলাকায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা চলছে কে পাচ্ছেন কাঙ্খিত সেই গ্রীন সিগনাল।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়ার যুগ্ম আহ্বায়ক মোমরেজুল ইসলাম, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিরুল ইসলাম কাগজী, সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক আনোয়ার আলদীন।

গত কয়েকদিন ধরে এলাকার হাট-বাজার, চায়ের স্টলে দলীয় এসব মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দলীয় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আগ্রহ নিয়ে এ আলোচনায় সামিল হচ্ছেন। কোন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেলে সহজে বিজয়ি হওয়া যাবে, কোন প্রার্থীর পক্ষে কেমন জনসমর্থন আছে, কোন প্রার্থীর পক্ষে দলীয় সমর্থন বেশি-এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি।

জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে ১৯৭৯ সালে এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতিকে সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর বিএনপির আর কেউ নির্বাচিত হয়নি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ি হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ি হয় আওয়ামীলীগ। এই দুই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠণের পর শরীক দল হিসেবে জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হয় এ আসন। এর পরবর্তি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিল না এখানে। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অযোগ্য হলে জামায়াতের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমন ভেবে দলীয় প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি।

বিএনপির কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আগের তুলনায় এ আসনে দলীয় সমর্থন বেড়েছে। এর আগের কয়েকটি নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হয়েছে। সে কারণে আগে থেকেই জামায়াত এ আসনে শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে। জামায়াতের ভিত নড়বড়ে করতে হলে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন তারা।

পাইকগাছা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা এলাকার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশে থেকে সহযোগীতা করেছেন এমন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ফলাফল ভাল হবে। মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা দীর্ঘ দিনেও এলাকার খবর রাখেন না। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ নেই। তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মওলা বকস বলেন, কর্মীবান্ধব ও জনবান্ধব নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় মানুষ। সেক্ষেত্রে খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমরেজুল ইসলামের নাম এলাকার মানুষের আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে। খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টুর নামও আলোচনায় রয়েছে। এ দুই জনের মধ্যে থেকে প্রার্থী নির্বাচিত হলে জামায়াতের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করেন তিনি।

এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে এ আসনে জামায়াত ও আওয়ামীলীগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির সমর্থনও বেড়েছে। তবে জামায়াতকে হারাতে হলে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপিকে।

গত ২৮ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেন। সেখানে প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি প্রার্থীতা চূড়ান্ত করে কেন্দ্র থেকে গ্রীন সিগনাল দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top