জুলাই সনদ সইয়ের পর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক করবে কমিশন

২১২.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট :
আগামী শুক্রবার সইয়ের পর জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারকে সুপারিশ করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধে যাতে সনদ সই অনিশ্চয়তায় না পড়ে, সে কারণেই কমিশন এ কৌশল নিয়েছে। তবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের আগে দলগুলো সনদে সই করবে কিনা– এ প্রশ্নও রয়েছে।

গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলগুলো একমত হলেও সময় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে তাদের। বিদ্যমান আইনে, নাকি সংবিধানের সমতুল্য আদেশ জারির মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করা হবে– প্রশ্নেও ঐকমত্য নেই। সনদে থাকা ৮৪ সংস্কার প্রস্তাবের যেগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও মতভিন্নতা রয়েছে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব কারণে আগেভাগে বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুপারিশ করলে সিদ্ধান্ত যে দলের মতামতের বিপক্ষে যাবে, তারা বেঁকে বসতে পারে। এ কারণে আগে সনদ সই হবে। পরে সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন। সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সমকালকে বলেছেন, মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে চূড়ান্ত সনদ পাঠানো হবে। তবে আর মতামত নেওয়া হবে না। শুধু অবহিত করার জন্য পাঠানো হবে। এই সনদই শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বড় আয়োজনের মাধ্যমে সই করবে সংলাপে অংশগ্রহণ করা রাজনৈতিক দলগুলো।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গণভোট কখন হবে– এ বিষয়ক সুপারিশ সরকারকে করা হবে না। তবে মতামত দেওয়া হবে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারিগরি সক্ষমতা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও জনবল রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি নির্বাচনের দিন গণভোট চায়। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরামর্শ দিয়েছে, সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে গণভোট আয়োজন করে আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা দিতে হবে। আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে গণ্য হবে। গণভোটের মাধ্যমে শুধু এই অধিবেশনকে সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তনের ‘কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার’ দেওয়া হবে।

গত রোববার কমিশনের সভায় একজন সদস্য মতামত দেন, আগামী সংসদকে ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা দেওয়া যেতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার সমকালকে বলেন, অনেক আলোচনাই হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপি সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার বিপক্ষে। দলটির প্রথম অবস্থান আগামী দুই বছরে সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী সংসদ। তবে দলটি এখন বলছে, ‘যথাসম্ভব শিগগির’ সংস্কার সম্পন্ন করার বিধান করা যেতে পারে। জামায়াত ও এনসিপি প্রথম অধিবেশনেই সংস্কার বাস্তবায়ন চায়।

সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০ রাজনৈতিক দল ও জোটের পক্ষে কারা সনদে সই করবেন, তা ইতোমধ্যে কমিশনকে জানিয়েছে সবাই। দক্ষিণ প্লাজায় রাত-দিন কাজ চলছে সনদ সই অনুষ্ঠানের। রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ তিন হাজারের বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হয়েছে জুলাই সনদের মাধ্যমে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও মাসের পর মাস একসঙ্গে বসে তারা এই সনদ তৈরি করেছে। এ অর্জনকে স্মরণীয় করতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান বড় আয়োজনে করার ইচ্ছা রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে সরকার, পুলিশ, প্রশাসন ছিল না। জনগণ দেশকে পাহারা দিয়েছে। তারাই জুলাই সনদের রক্ষক। অনুষ্ঠান থেকে এ বার্তা যাবে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগেই নির্ধারিত পটভূমি, ৮৪ সংস্কারের সিদ্ধান্ত ও সাত দফা অঙ্গীকারনামা থাকছে সনদে। গত কয়েক দিনে এগুলোর ভাষাগত পরিমার্জন হলেও মূল ভাব ঠিক রাখা হয়েছে। আগে অবশ্য আট দফা অঙ্গীকার ছিল। গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিধান যুক্ত করায় আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রহিত করা এবং সনদের ব্যাখ্যার দায়িত্ব আপিল বিভাগকে দেওয়ার বিষয়টি থাকছে না।
গত বৃহস্পতিবার কমিশন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শন-সংক্রান্ত ৪(ক) অনুচ্ছেদ সংবিধান থেকে বাতিলের প্রস্তাবে দলগুলোর মতামত নিয়েছে। তবে সংলাপের আগেই এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় এ সংস্কার সনদে থাকছে না বলে জানিয়েছেন মনির হায়দার। তিনি বলেন, সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top